• ঢাকা
  • মঙ্গলবার , ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ , রাত ১১:৫৭
  • ২ পৌষ, ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
হোম / জাতীয়

ভোলার দক্ষিণ দীঘলদিতে চাঁদা না পেয়ে কৃষকের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা

রিপোর্টার : দৈনিক গণমানুষের বাংলাদেশ
ভোলার দক্ষিণ দীঘলদিতে চাঁদা না পেয়ে কৃষকের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ

ভোলা প্রতিনিধি।

ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দীঘলদি ইউনিয়নে চাঁদা না পেয়ে এক তরমুজ চাষির উপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। বর্তমানে গুরুতর আহত কৃষক আক্তার হোসেন ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহত কৃষক আক্তার হোসেন ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ভোলার দক্ষিণ দীঘলদির বিচ্ছিন্ন রাবেয়ার চর, পাতা বুনিয়া-১,২ ও ৩ চরে প্রতি বছরের ন্যায় এবছর ও তরমুজ চাষা করার জন্য মালিকদের কাছ থেকে জমি লগ্নি নেয় দক্ষিণ দীঘলদি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের জেবল হকের ছেলে আক্তার হোসেন। কিছু দিন পূর্বে আক্তার হোসেনের এ চাষাবাদের উপর লোলুপ দৃষ্টি পরে স্থানীয় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী চক্রের মূল হোতা দক্ষিণ দীঘলদি ৮নং ওয়ার্ডের ছিদ্দিক ফরাজীর ছেলে বহুল আলোচিত জাকির হোসেন ফরাজীর।

২১ অক্টোবর দুপুরে কৃষক আক্তার হোসেন এ প্রথম তার লগ্নিকৃত জমিতে চাষাবাদ করার জন্য প্রস্তুতি নেয়। এসময় বাবলু মাতাব্বর, বজলু, মাইনুদ্দিন রাড়ি, সবুজ মাল, লিমন, জিহাদ, হাসান, সোয়ান, রশিদ, আলআমিন, ফারুক, জিহাদ, নাজমুলসহ ২০/২৫জনের একটি সন্ত্রাসী দল চাষি আক্তার হোসেনের জমিতে গিয়ে তার চাষাবাদ বন্ধ করে দেয়। পরে তারা আক্তার হোসেনকে বলে আপনাকে জাকির ফরাজী আমাদের সাথে যেতে বলেছে। এসময় আক্তার হোসেন সন্ত্রাসীদের পেশী শক্তির কাছে হারমানলে সন্ত্রাসীরা জিম্মি করে তাকে কোড়ালিয়া বাজার এলাকায় নিয়ে যায়।

ভূক্তভোগীরা আরো জানায়, এ সময় সন্ত্রাসীরা তাদের মোবাই দিয়ে আক্তার হোসেনকে জাকির ফরাজীর সাথে কথা বলতে বলে। পরে জাকির ফরাজী আক্তার হোসেনের কাছে মোবাইল ফোনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। ওই মুহুর্তে অসহায় ও জিম্মি আক্তার হোসেন সন্ত্রাসীদের দাবীকৃত চাঁদার টাকা দিতে গরিমসি করলে সন্ত্রাসীরা তাকে লাঠি ও লোহার রট দ্বারা অমানুষিক ভাবে নির্যাতন করে। ওই মুহুর্তে সন্ত্রাসীদের নির্মম নিষ্ঠুর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আক্তার হোসেন সন্ত্রাসীদের দাবীকৃত চাঁদার টাকা ২২ অক্টোবর থেকে কয়েক ধাপে দিতে রাজি হয়।

জানাগেছে, বাবার এ বিপদে আক্তার হোসেনের ছেলে তানজিল ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা তার উপরেও নির্মম ভাবে নির্যাতন চালায়। আহত আক্তার হোসেন আরো জানায়, পরে সন্ত্রাসীরা প্রথমে আক্তার হোসেনের হাতে একটি দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মোবাইলে ভিডিও করে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিব বলে হুমকি দেয়। এরপর সন্ত্রাসীরা আক্তার হোসেন, তার স্ত্রীর ও তার মার কাছ থেকে খোলা ষ্ট্যাম্পে ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে তাকে ছেড়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত আক্তার হোসেনকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেণ আহত  অসহায় কৃষক আক্তার হোসেন ও তার পরিবার। এ ব্যাপারে প্রধান  অভিযুক্ত জাকির হোসেন ফরাজীর সাথে যোগাযোগ করা হলে সে অভিযোগ অস্বীকার করে।


সারাবাংলা

আরও পড়ুন