ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীতে মাসিক ‘মোটা অংকের’ ঘুষের বিনিময়ে স্পা ও শিশা বার পরিচালনায় সহায়তার অভিযোগ উঠেছে বনানী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) এ কে এম মঈন উদ্দিন–এর বিরুদ্ধে। অনুসন্ধান ও একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, আইন, নিয়ম বা বিধি দ্বারা অনুমোদিত নয়— এমন একাধিক স্পা সেন্টার ও শিশা বারকে ব্যবসা পরিচালনায় সহযোগিতা করে আসছেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, স্পা ও শিশা বারগুলোর আড়ালে রাজধানীর এই অভিজাত অঞ্চলে মাদক বাণিজ্য ও অসামাজিক কার্যক্রম চললেও তাতে কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো সাপ্তাহিক ও মাসিক ‘মাসোয়ারা’ আদায় করা হচ্ছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও টাকা উদ্ধার, জমি–জমা সংক্রান্ত বিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে থানায় আটকে রেখে মামলা বা মামলার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
তদন্তে কড়াইল বস্তির মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের তথ্যও বের হয়ে আসছে বলে সূত্র জানিয়েছে। কড়াইলের বিভিন্ন স্পটে প্রকাশ্যে দিন–রাত মাদক বেচাকেনা চললেও কোনো অভিযান বা কঠোর তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে না— বরং কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ আদায়ের অভিযোগ করছেন স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)–এর একটি সূত্র জানায়, বনানীর ‘৩৬০ ডিগ্রি সিসা লাউঞ্জ’–এর পাশাপাশি কিউডিএস, ৩২ ডিগ্রি, সেলসিয়াস, আরগিল লাউঞ্জ, এস্কেটিক লাউঞ্জসহ আরও কয়েকটি অবৈধ শিশা বার স্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে মদ, গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সেবন ও বেচাকেনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি বার থেকে মাসে তিন থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেন মঈন উদ্দিন।
বনানী থানার আওতাধীন **‘৩৬০ ডিগ্রি সিসা লাউঞ্জে’ ইন্টারনেট ব্যবসায়ী রাহাত হোসেন রাব্বী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর তার ‘ভাগ্য খুলে যায়’ বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক শিশা বার–সংশ্লিষ্ট সূত্র। অভিযোগ মতে, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি সব অবৈধ বারে মাসিক ঘুষের হার দ্বিগুণ করে দেন এবং অর্থ আদায়ের সময় তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নামে তুলে ধরেন বলেও তথ্য মিলেছে।
একইভাবে বনানীর কয়েকটি স্পা সার্ভিস প্রতিষ্ঠান— আলোরী স্পা প্রিমিয়াম, স্পা সারিনি অ্যান্ড থাই ম্যাসেজ, হ্যাপি আওয়ার স্পা, ব্লিস স্পা, জি স্পা সিগনেচার, ঢাকা বডি ম্যাসেজ স্পাসহ আরও কয়েকটি স্পা সেন্টারের কোনো সরকারি অনুমোদন নেই বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। এসব স্পা থেকেও মাসে চার লাখ টাকা ঘুষ আদায় করা হয় এবং অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালনায় তিনি মৌখিক ‘অনুমোদন’ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া মানবপাচার মামলায় বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলামকে অর্থের বিনিময়ে থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার ঘটনায়ও মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ১৩ নভেম্বর আদালতে তলব হলে বনানী থানার ওসি মো. রাসেল সরোয়ার ওই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেও অভিযুক্ত পরিদর্শককে নিয়ে পুলিশ মহলে এখনো চলছে আলোচনা–সমালোচনা।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি থানা–পুলিশের বিরুদ্ধে মামলাবাণিজ্য, বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ভয়–ভীতি প্রদর্শন ও অর্থ আদায়–এর মতো নানা অভিযোগ তুলে দ্রুত ওই কর্মকর্তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হতে পারে।