ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফল বাতিল করে বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করেছেন আদালত। একই সঙ্গে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে মেয়র ঘোষণা করে সরকারের জারি করা গেজেটও বাতিল করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম এ রায় দেন। ইশরাক হোসেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার (প্রয়াত) ছেলে।
এই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে মেয়র প্রার্থী ছিলেন ইশরাক। ঘোষিত ফল অনুযায়ী ব্যারিস্টার তাপস পান ৪ লাখ ১৫ হাজার ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইশরাক পান ২ লাখ ৩৬ হাজার ভোট। নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফল বাতিল চেয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা করেছিলেন ইশরাক। এই মামলার রায় দিলেন আদালত।
এর আগে আদালতের দেওয়া রায় পেয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশেনর মেয়র হিসেবে ডা. শাহাদাত হোসেন দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া দেশের অন্য সব সিটি করপোরশনে মেয়র পদ শূন্য। সেগুলোতে প্রশাসকরা দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. তোফায়েল আহমদ সমকালকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আগামী ১৬ এপ্রিল ব্যারিস্টার তাপসের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। সে হিসেবে ওই সময় পর্যন্ত ইশরাক হোসেন মেয়রের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে নির্বাচন না হলে সরকার চাইলে তাঁকে মেয়র পদে রাখতে পারবে; আবার প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব দিতে পারে।
রায় ঘোষণার পর ইশরাক লোকজন নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে বিজয় মিছিল করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। মেয়র হিসেবে শপথ নেব কিনা– সেটা সম্পূর্ণ দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়।’
আদালতের রায়ের পর ইশরাকের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে গেজেট প্রকাশ করতে হবে। নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ তুলে ধরে ইশরাক বলেন, ‘সারা জাতি দিনদুপুরে দেখেছে ভোট ডাকাতি হয়েছে। প্রথম থেকে আমরা অভিযোগ করে আসছিলাম, বিভিন্নভাবে আমাদের প্রচার বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিনা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। আমাদের মিছিলে হামলা ও নেতাকর্মীকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়। দিনব্যাপী তারা কারচুপি করেছে।’
মামলায় তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) এম নূরুল হুদা, রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন, ফজলে নূর তাপসসহ আটজনকে বিবাদী করা হয়েছিল। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন সংক্ষুব্ধ প্রার্থী বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি। মামলার পর ১৮০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করার নিয়ম থাকলেও এ ক্ষেত্রে সময় লাগল পাঁচ বছর।
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্বাচনও হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম মেয়র হন। গত ২০ আগস্ট একযোগে দেশের ১২ মেয়রকে বরখাস্তের আদেশ জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এদিকে মেয়রদের পদ শূন্য হওয়ার পর থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা জুলাই আন্দোলনের আদর্শের অনুসারী ও সক্রিয় ব্যক্তিদের প্রশাসক পদে বসানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সিটি করপোরেশনে কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে বসায় সরকার। পরে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজকে ডিএনসিসির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও দেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে মোহাম্মদ এজাজকে এক বছরের জন্য ডিএনসিসির প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।